পটুয়াখালীর লিজা আক্তার ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারান। বিয়ের পর স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। দুই সন্তানের ভবিষ্যতের আশায় দুই বছর আগে তিনি সৌদি আরবে যান। কিন্তু সেখানে চারবার হাতবদল ও অমানবিক নির্যাতনের যৌন শিকার হন। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। এয়ারপোর্টে তাকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (পিবিআই) ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামে পাঠায়। বর্তমানে তিনি ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার রিজিয়া বেগম ছয় বছর আগে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় কাজ করানো, কম খাবার দেওয়া এবং নির্যাতনের শিকার হন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর পরিবার থেকে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং প্রায় পাঁচ বছর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার বিমানবন্দরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার ও পিবিআই-এর সহযোগিতায় পরিচয় শনাক্ত হয়ে ১৩ দিন পর তিনি পরিবারের কাছে ফিরে যান। বর্তমানে তাঁকে মানসিক সুস্থতার জন্য চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
লিজা ও রিজিয়ার মতো নারীর সংখ্যা বর্তমানে অনেক। গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে নারী অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১০ লাখের বেশি নারী বিদেশে কাজ করছেন। তবে তাদের মধ্যে কতোজন দেশে ফিরেছেন, তার সঠিক তথ্য নেই। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী দেশে ফিরে এসেছেন, যাদের বেশিরভাগই নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ৮০০ নারীর লাশ দেশে এসেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি নারী মানব পাচারের শিকার হয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে কাল, ৮ মার্চ পালিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘অধিকার, ন্যায়বিচার, উদ্যোগ সব নারীর জন্য হোক’। এর মাধ্যমে দেশে থাকা নারীর পাশাপাশি প্রবাসে থাকা নারীরও অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply