📍 গাজা, ১১ জুলাই ২০২৫
লেখা: সংবাদ প্রতিনিধি
গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শিশু ও নারীদের উপর ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৮ শিশু এবং ২ নারী রয়েছেন। এছাড়া বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে প্রজেক্ট হোপ নামক একটি আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার পরিচালিত “আল-তায়ারা” ক্লিনিকের সামনে অপুষ্ট শিশুদের জন্য খাবার নিতে মানুষ জড়ো হয়। সেই সময় একটি ড্রোন হামলা হয় এবং মুহূর্তেই চারপাশ রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনাস্থলের পাশের আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শিশুদের মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে এবং চিকিৎসকরা আহতদের সেবা দিচ্ছেন।
নিহত শিশুদের জন্য হাসপাতালের বাইরে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কাঁদছিলেন স্বজনরা। একজন নারী জানান, নিহতদের মধ্যে তার গর্ভবতী ভাগ্নী মানাল ও তার মেয়ে ফাতিমা এবং মানালের আরেক সন্তান নিবিড় পরিচর্যায় ছিলেন।
“ঘটনার সময় সে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল শুধু শিশুদের জন্য খাবার নিতে,” জানান ইন্তিসার নামের এক স্বজন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহায়তা সংস্থা প্রজেক্ট হোপ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থার সভাপতি রাবিহ তোরবে বলেন,
“এই সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে মানুষ আসে চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার আশায়। অথচ আজ সেখানে লাইনে দাঁড়ানো নিরীহ পরিবারগুলোকে নির্মমভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।”
ইউনিসেফ প্রধান ক্যাথেরিন রাসেল বলেন, “জীবন রক্ষার জন্য সাহায্য নিতে চাওয়া পরিবারগুলোর ওপর হামলা অযৌক্তিক ও হৃদয়বিদারক।”
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তারা হামাসের নুখবা বাহিনীর এক সদস্যকে টার্গেট করেছিল এবং বেসামরিক প্রাণহানির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে।
তবে হামলার তীব্র সমালোচনা করে অনেকেই বলছেন, এ ধরণের হামলা যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলবে।
Leave a Reply