সাত সপ্তাহ ধরে গাজায় সাহায্য প্রবেশ করেনি: ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইউরোপের তিন দেশের প্রতিবাদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৬ এপ্রিল ২০২৫
গাজায় মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNRWA) জানিয়েছে, টানা সাত সপ্তাহ ধরে কোনো মানবিক সাহায্য গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিকে ইসরাইলের “মানবিক সহায়তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের” নীতির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপের তিন দেশ—স্পেন, বেলজিয়াম এবং আয়ারল্যান্ড।
স্পেন: “মানবিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন”
জাতিসংঘে স্পেনের স্থায়ী প্রতিনিধি হেক্টর গোমেজ হার্নান্দেজ বলেন,
“গাজায় পুনরায় আক্রমণ এবং পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান বৃদ্ধি মানবিক পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। মানবিক স্থাপনাগুলো সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।”
বেলজিয়াম: “মানবিক সাহায্য কখনোই যুদ্ধের হাতিয়ার হতে পারে না”
জাতিসংঘে বেলজিয়ামের স্থায়ী প্রতিনিধি সোফি ডি স্মেট বলেন,
“এই সংঘাতে মানবিক সাহায্যকে অস্ত্রে পরিণত করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সব পক্ষকে সম্মান করতে হবে—যে কোনো পরিস্থিতিতেই। ত্রাণ প্রবেশে বাধা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল।”
আয়ারল্যান্ড: “ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘকে অবজ্ঞা করছে”
জাতিসংঘে আয়ারল্যান্ডের স্থায়ী প্রতিনিধি ফার্গাল মিটেন কঠোর ভাষায় বলেন,
“গাজায় যা ঘটছে, তা আন্তর্জাতিক আইন, নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের নীতির প্রতি ঘৃণ্য অবজ্ঞা। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং খাদ্য ও ওষুধ আটকে রাখার মাধ্যমে ইসরাইল গাজা জনগণের ওপর অসহনীয় দুর্ভোগ চাপিয়ে দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে এবং অবরুদ্ধ জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।”
—
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
ইউরোপের প্রগতিশীল রাষ্ট্রগুলো ইসরাইলের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে ইসরাইলের উপর চাপ বাড়ছে। গাজার নিরস্ত্র জনগণের দুর্ভোগ কমাতে মানবিক সহায়তা পুনরায় প্রবেশের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
Leave a Reply