গাজায় শেষ হয়েছে সব খাদ্য মজুদ, ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৫ এপ্রিল ২০২৫
গাজা উপত্যকায় খাদ্যের জন্য এখন চলছে চরম হাহাকার। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় তাদের সব খাদ্য মজুদ শেষ হয়ে গেছে। ইসরায়েলের ২ মার্চ থেকে সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, গাজার উপত্যকার রান্নাঘরগুলোতে তাদের হাতে থাকা সর্বশেষ খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। এগুলো গাজার অর্ধেক জনগণের দৈনন্দিন চাহিদার মাত্র ২৫ শতাংশ পূরণ করত। তবে কিছুদিনের মধ্যেই রান্নাঘরগুলোও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তারা যে ২৫টি বেকারিকে সহায়তা করত, সেগুলো গমের আটা ও রান্নার জ্বালানির অভাবে গত ৩১ মার্চের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দ প্যাকেটজাত খাবারও সেই সময় শেষ হয়ে যায়।
বর্তমানে গাজায় নিরাপদ পানি ও জ্বালানির মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। মানুষ খাবার রান্নার জন্য জ্বালানি হিসেবে পোড়ানোর মতো কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছে।
আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, গাজা এখন ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত অবরোধের শিকার। টানা সাত সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কোনো মানবিক কিংবা বাণিজ্যিক সহায়তা উপত্যকায় প্রবেশ করতে পারেনি। খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে ১৪০০ শতাংশ পর্যন্ত।
এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী এবং বয়স্করা। চরম পুষ্টিহীনতায় ভোগার আশঙ্কা বাড়ছে।
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, সীমান্ত খুললেই তারা ১০ লাখ মানুষের চার মাসের জন্য পর্যাপ্ত ১ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা গাজায় পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে।
বিবৃতিতে সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মানুষ আর সহ্য করতে পারছে না। অবিলম্বে মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।”
#গাজা_সংকট #খাদ্য_দুর্ভিক্ষ #মানবিক_বিপর্যয় #জাতিসংঘ #WFP
Leave a Reply