ইসরাইল–যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে মুসলিম বিশ্বের নীরবতায় ইরানের নিন্দা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ত্রিশাল হেল্প সেন্টার
ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাবিষয়ক কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি মুসলিম বিশ্ব ও ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-এর আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) দেওয়া ওই বার্তায় তিনি বলেন, আলোচনার সময়ই ইরান একটি প্রতারণামূলক মার্কিন–জায়নবাদী আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। এ হামলায় ইসলামি বিপ্লবের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ বহু বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

(ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড খার্গ দ্বীপের স্যাটেলাইট চিত্র)
লারিজানি বলেন, ইরানি জনগণ দৃঢ় জাতীয় ও ইসলামি প্রতিরোধের মাধ্যমে এই আগ্রাসনের জবাব দিয়েছে। এর ফলে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংঘাতের সময় অধিকাংশ ইসলামি রাষ্ট্রের সংহতির অভাবেরও সমালোচনা করেন তিনি। কিছু সরকার সীমিত রাজনৈতিক সমর্থন জানালেও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্ব মূলত নীরব থেকেছে বলে তার অভিযোগ।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র—যাকে তিনি ‘বড় শয়তান’ এবং ইসরাইলকে ‘ছোট শয়তান’ হিসেবে উল্লেখ করেন—তাদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ রক্ষার অংশ। তিনি কিছু ইসলামি সরকারের অবস্থান ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং এক হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে মুসলিমদের পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
বার্তায় সেইসব দেশগুলোর সমালোচনারও জবাব দেওয়া হয়, যারা নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। লারিজানির ভাষ্য অনুযায়ী, যদি ওই ঘাঁটিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে ইরান নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, বর্তমান সংঘাত মূলত একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এবং অন্যদিকে মুসলিম ইরান ও প্রতিরোধ শক্তিগুলোর মধ্যে। মুসলিম বিশ্বের নেতাদের তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি উম্মাহর ঐক্যই মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা, উন্নতি ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।
Leave a Reply