হার্সের সতর্কবার্তা: এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা, খার্গ দ্বীপে ইরানের তেল খাতে হামলার ছায়া
ত্রিশাল হেল্প সেন্টার (আন্তর্জাতিক ডেস্ক):
ইরানের মূল তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে সাম্প্রতিক হামলার জের ধরে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষক এবং অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি আঘাত হানতে পারে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে, যারা জ্বালানি তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
সম্প্রতি এক মূল্যায়নে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হার্স উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এটা সত্যিই এশিয়ার অর্থনীতিগুলোকে আঘাত করবে, যারা অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্যের বিশাল আমদানিকারক।” তার এই মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইরানি দ্বীপ খার্গ।
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মাত্র ৮ কিলোমিটার লম্বা ও ৪-৫ কিলোমিটার চওড়া এই ছোট্ট দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দ্বীপেই আবুজার, ফুরুজান ও দুরুদ—এই তিনটি বড় অফশোর তেলক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল এসে জমা হয় এবং সেখান থেকে ট্যাঙ্কারে করে তা রপ্তানি করা হয়। খার্গ দ্বীপ থেকে বার্ষিক প্রায় ৯৫ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়, যার সিংহভাগই যায় এশিয়ার বাজারে, বিশেষ করে চীনে।
১৯৮০-র দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় এই দ্বীপে ভয়াবহ বোমা হামলা হয়েছিল, যা তৎকালীন ইরানের তেল রপ্তানি ব্যবস্থাকে প্রায় বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করে ইরান। বর্তমান হামলায় খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের বাজারে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে। খার্গ দ্বীপের ওপর এই হামলা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যার ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এশিয়ার বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতিতে।
Leave a Reply