1. online@trishalhelpcenter.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. news@trishalhelpcenter.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শহীদ স্যাটেলাইট ছবিতে আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ে ক্ষতির চিত্র ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড প্রধান নিহত—রয়টার্স ইরানের পাল্টা হামলায় কাঁপলো ইসরাইল, নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা: ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বহিষ্কার জামাতে ইসলামী সহ ইসলামিক দলগুলোর ১১ জোটে—কৌশলী জামাত লাভবান নাকি অন্যরা লাভবান? ৩ আসনের ব্যালট পেপার-রেজাল্ট শিটসহ সব নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়া স্ত্রীকে তালাকের নির্দেশ—বিএনপি এমপি ত্রিশালে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ৫ মামলায় ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা জামিনে মুক্ত হলেই আ. লীগ নেতাকর্মীদের পুনরায় গ্রেপ্তারের নির্দেশ

জামাতে ইসলামী সহ ইসলামিক দলগুলোর ১১ জোটে—কৌশলী জামাত লাভবান নাকি অন্যরা লাভবান?

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১০ বার

জামাতে ইসলামী সহ ইসলামিক দলগুলোর ১১ জোটে—কৌশলী জামাত লাভবান নাকি অন্যরা লাভবান?

সাম্প্রতিক নির্বাচন ঘিরে ইসলামিক দলগুলোর জোট রাজনীতি এখন তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে। বিশেষ করে ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ ও গাইবান্ধা-৪ আসন নিয়ে জামাতে ইসলামী হাইকোর্টে মামলা করার পর আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যালট পেপার, রেজাল্ট শিটসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। মাঠের আলোচনায় অনেকেই বলছেন—আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এই তিন আসনে ফলাফলের পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়ও। ইসলামিক দলগুলোর ১১ দলীয় জোট গঠন, পরে তা ভেঙে ১০ দলে রূপ নেওয়া—এই পুরো প্রক্রিয়া কি কৌশলগতভাবে একপাক্ষিক সুবিধা তৈরি করেছে? শরিক দলগুলোকে হাতেগোনা কয়েকটি আসন ছেড়ে দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই আসনগুলোতে কতটা আন্তরিক সহযোগিতা ছিল—তা নিয়ে এখন জোর প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

ঢাকা-১৩ আসন এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এটি ছিল শরিক দলের নেতা মামুনুল হকের জন্য নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ আসন। ভোটের হিসাব ঘেঁটে অনেকেই বলছেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পড়া ৬০০-এর বেশি ভোট জোটগত সমঝোতা অনুযায়ী রিকশা প্রতীকে ট্রান্সফার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল উল্টো। ফলাফল—আমিনুল হক দুই হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত। এই ব্যবধানকে “স্বাভাবিক রাজনৈতিক হার” হিসেবে না দেখে অনেকেই দেখছেন সমন্বয়হীনতার স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে।

অভিযোগ আরও গভীর। নির্বাচনের আগে ও পরে জামাতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মামুনুল হকের প্রতি দৃশ্যমান ও শক্তিশালী সাংগঠনিক সাপোর্ট ছিল না—এমন কথা শরিক মহলেই ঘুরছে। আইনি লড়াইয়েও প্রত্যাশিত সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজের প্রসঙ্গ টেনে অনেকে বলছেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের পর্যবেক্ষণ—এই জোটে কৌশলগতভাবে সবচেয়ে বেশি লাভ তুলেছে জামাতে ইসলামী। তাদের যুক্তি, এককভাবে নির্বাচনে গেলে জামাতের পক্ষে এতগুলো আসনে প্রভাব তৈরি করা কঠিন হতো। কিন্তু জোটের ছায়ায় তারা সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে।

এদিকে বিকল্প রাজনৈতিক হিসাবও আলোচনায়। অনেকের বক্তব্য, যদি মামুনুল হক বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় যেতেন, তাহলে একাধিক আসন পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল; এমনকি নির্বাচিত হলে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার পথও খুলতে পারত—এমন কথাও রাজনৈতিক অন্দরে শোনা যাচ্ছে।

চরমোনাই পীর সাহেবের জোট ত্যাগের সিদ্ধান্তও নতুন করে মূল্যায়নের টেবিলে এসেছে। কেউ বলছেন এটি ছিল দূরদর্শী পদক্ষেপ, আবার কেউ দেখছেন বাস্তব রাজনৈতিক চাপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে।

সবচেয়ে স্পর্শকাতর আলোচনা হচ্ছে কওমি ঘরানার আলেম সমাজকে ঘিরে। সমালোচকদের অভিযোগ—জামাতে ইসলামী প্রয়োজনে এই ধারার আলেমদের কাছে টানে, আবার রাজনৈতিক প্রয়োজন ফুরালেই দূরত্ব তৈরি করে। এবারের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা সেই ধারণাকে অনেকের কাছে আরও জোরালো করেছে। তবে জামাত সমর্থকরা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে প্রশ্নটি এখন আরও ধারালো—১১ দলীয় ইসলামিক জোটে প্রকৃত লাভবান কে? জামাতে ইসলামী, নাকি তাদের শরিকরা?
জনমতের বড় অংশ মনে করছে, টেকসই ও বিশ্বাসযোগ্য জোট রাজনীতি গড়তে হলে কেবল আসন বণ্টন নয়, দরকার আন্তরিক মাঠসমন্বয়, সমান আইনি সহায়তা এবং পারস্পরিক আস্থার বাস্তব প্রমাণ। অন্যথায় জোট থাকবে কাগজে—কিন্তু আস্থার ঘাটতি থেকেই যাবে মাঠে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

সম্পাদকীয় ত্রিশালে জাতীয় নির্বাচন: গণতন্ত্র রক্ষায় শান্তি, সংযম ও রাষ্ট্রচিন্তার সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়—এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি বড় পরীক্ষা। ময়মনসিংহ–১৫২ (ত্রিশাল) আসনও এই জাতীয় প্রক্রিয়ার বাইরে নয়; বরং এখানকার নির্বাচন সারাদেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। ত্রিশাল আসনে এবারের নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা খলিলুর রহমান, ধানের শীষ প্রতীকে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। ভিন্ন মতাদর্শ, ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান থাকা সত্ত্বেও এই প্রতিযোগিতা যেন থাকে ন্যায়সংগত, শালীন ও শান্তিপূর্ণ—এটাই জনগণের প্রত্যাশা। জাতীয় নির্বাচন মানেই মতের লড়াই, কিন্তু কখনোই শক্তির প্রদর্শনী নয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে—যেখানে একটি স্বার্থান্বেষী পক্ষ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কৃত্রিম অস্থিরতা, অরাজকতা ও সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হলে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে কেউ কেউ অগ্নিকাণ্ড, লুটপাট, ভাঙচুর, গুজব ছড়ানো কিংবা সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ত্রিশাল হেল্প সেন্টার মনে করে, এ ধরনের যে কোনো অপচেষ্টা রাষ্ট্র, সমাজ এবং সাধারণ মানুষের জন্য চরম ক্ষতিকর। নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র মানেই দেশের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া। যারা সহিংসতা, অস্থিরতা কিংবা নাশকতার কথা ভাবছেন—তাদের প্রতি আমাদের স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন আহ্বান, দেশটা আগে। রাজনৈতিক লাভ-লোকসান আসবে-যাবে, কিন্তু দেশের ক্ষতি হলে তার দায় ইতিহাস কখনো ক্ষমা করে না। আমরা বিশ্বাস করি, ত্রিশালের মানুষ সচেতন। তারা জানেন, ভোটাধিকার প্রয়োগই শক্তির প্রকৃত উৎস। কোনো ভয়, প্রলোভন কিংবা গুজবে কান না দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। একই সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থানে থাকার আহ্বান জানাই। গণতন্ত্র টিকে থাকে সংযমে, সহনশীলতায় এবং আইনের শাসনে। এই নির্বাচন যেন হয় ভোটের মাধ্যমে রায় দেওয়ার উৎসব, আগুন-ভাঙচুরের রাজনীতি নয়। ত্রিশাল হেল্প সেন্টার প্রত্যাশা করে—এই আসনের নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য; যা দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাবে। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে—আসুন সবাই দায়িত্বশীল হই। দেশ আগে, নির্বাচন পরে নয়—বরং দেশকে বাঁচিয়েই নির্বাচন। — সম্পাদকীয় বিভাগ ত্রিশাল হেল্প সেন্টার

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
© 2025, All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews