নাহিদ হাসনাতসহ যেসব নেতাকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্ট | ত্রিশাল হেলথ সেন্টার
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:০৫
দেশের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা, সমন্বয়ক, রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ-সদস্য প্রার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে যারা আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন, বিশেষ করে আধিপত্যবাদ ও একপক্ষীয় নীতির বিরুদ্ধে রাজপথ ও লেখনীতে সোচ্চার ছিলেন—তাদের একটি অংশ বর্তমানে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক শরীফ ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর এই আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীন ও স্বকীয় পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরাই একটি পরিকল্পিত হুমকির মুখে পড়ছেন।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন শীর্ষ সংগঠক ও রাজনৈতিক নেতাকে গানম্যান প্রদান করেছে। পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
গানম্যান পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম,
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ,
সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা,
উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
এছাড়াও বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ-সদস্য প্রার্থী ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে তাদের গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ তালিকায় রয়েছেন—
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান,
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ,
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি,
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তানভির আহমেদ রবিন,
বিএনপির আরেক প্রার্থী জাফির তুহিন,
জেপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু,
এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ আরও কয়েকজন।
এদিকে, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া শরীফ ওসমান হাদির পরিবারের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হাদির এক বোনকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান,
“জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও সংসদ-সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে যারা নিরাপত্তা চেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
Leave a Reply