দুটি অপরাধে হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড
ত্রিশাল হেল্প সেন্টার ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত হয়েছে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড। সোমবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে।
ট্রাইব্যুনাল জানায়, পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রাজসাক্ষী হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে উল্লেখ করা হয়—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দমন-পীড়ন, হত্যাকাণ্ড, উসকানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ভার শেখ হাসিনার ওপর প্রমাণিত হয়েছে। আদালত আরও জানায়, চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা এবং অন্যান্য নৃশংস হামলায় সরাসরি পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিরও যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময়ে আদালতকক্ষ ছিল জনাকীর্ণ। আন্দোলনে নিহতদের পরিবার ও আহতদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
মামলার পটভূমি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা এই মামলায় পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়—
উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান
হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের নিধনের নির্দেশ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যায় প্ররোচনা ও সম্পৃক্ততা
রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ
আশুলিয়ায় জীবিতসহ মোট ছয়জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা
মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন, যার মধ্যে ছিলেন আন্দোলনকারীরা, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন অডিও-ভিডিও, জব্দকৃত আলামত ও নথিপত্র প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকা ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বহুস্তর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকে। আগের দিন সন্ধ্যার পর থেকে দোয়েল চত্বর–শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়।
Leave a Reply