পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন, পবিত্র কুরআন পুড়িয়ে দিল দখলদার বাহিনী
ত্রিশাল হেল্প সেন্টার ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫
অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবারও ধর্মীয় স্থাপনায় বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দখলদার ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা ভোররাতে একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং মসজিদের ভেতরে থাকা পবিত্র কুরআনের একাধিক কপি পুড়িয়ে ফেলে।
গত দুই বছরে গাজা ও পশ্চিম তীরজুড়ে ব্যাপক হামলায় অসংখ্য মসজিদ ধ্বংস হয়েছে। এ সময়ে ধর্মীয় স্থাপনায় আক্রমণ, অবরোধ এবং জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ ঘিরে বিতর্কিত কার্যক্রম বেড়েই চলেছে। স্থানীয়রা জানায়, মসজিদের চারপাশে নিয়মিত ভাঙচুর, গ্রেনেড নিক্ষেপ, আগুন লাগানোসহ বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
নতুন এই হামলাটি ঘটে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের দেইর ইস্তিয়া গ্রামের হাজ্জা হামিদা মসজিদে। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, ভোরের দিকে কয়েকজন দখলদার বসতি স্থাপনকারী মসজিদে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে মসজিদের ভেতরের কিছু অংশ, কার্পেট ও পবিত্র কুরআনের কপি পুড়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, মসজিদের দেয়ালে স্প্রে-পেইন্ট দিয়ে ফিলিস্তিনবিরোধী নানা উসকানিমূলক স্লোগান লেখা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল—‘আমরা ভয় পাই না’, ‘আমরা আবার প্রতিশোধ নেব’—এ ধরনের বার্তাও।
ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষ হামলাটিকে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে নির্মম আঘাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, অবৈধ দখলদার শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিম ও খ্রিষ্টান—উভয় সম্প্রদায়ের পবিত্র স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে, যাতে ওই অঞ্চলে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক মহলও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলেছে, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পশ্চিম তীরে সাধারণ মানুষের ওপর সহিংসতা ও হামলার ধারাবাহিক বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ত্রিশাল হেল্প সেন্টার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় এবং মানবতাবিরোধী সকল হামলা বন্ধে আন্তর্জাতিকভাবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।
Leave a Reply