আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৫ জুলাই ২০২৫ | সূত্র: রয়টার্স
ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শহর সিনজিল এখন কার্যত একটি উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছে। শহরের চারপাশে পাঁচ মিটার উঁচু ধাতব বেড়া দিয়ে শুধুমাত্র একটি প্রবেশপথ খোলা রেখেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ, যা রয়েছে সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারিতে। এর ফলে শহরের প্রায় ৮ হাজার মানুষ কার্যত ১০ একর জায়গার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
শহরের বাসিন্দা ও সাত সন্তানের জনক মুসা শাবানেহ বলেন, “সিনজিল এখন একটি বড় কারাগার। আমার নার্সারি ছিল, সব গাছ পুড়িয়ে দিয়েছে। উপার্জনের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে।”
গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে চেকপয়েন্ট ও কৃত্রিম বাধা দেয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক শহর ও গ্রাম স্থায়ীভাবে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
সিনজিলের ডেপুটি মেয়র বাহা ফোকা জানান, শহরটির বাইরের ২ হাজার একর জমি এখন কার্যত নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, “এটা ফিলিস্তিনিদের মনোবল ভাঙার দমনমূলক কৌশল।”
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, রামাল্লাহ-নাবলুস মহাসড়ক রক্ষার জন্যই এ পদক্ষেপ। তবে স্থানীয়রা বলছেন, বাস্তবে একটি সরু গেট ছাড়া শহরের কোথাও যাতায়াতের সুযোগ নেই।
সিনজিলের বাসিন্দা সানা আলওয়ান বলেন, “আগে রামাল্লায় যেতে ৩০ মিনিট লাগত, এখন লাগে ৩ ঘণ্টা। ফলে আমি ক্লায়েন্টদের কাছে পৌঁছাতে পারি না।”
ইসরাইলি বাহিনী এখন পশ্চিম তীরে ‘ফ্লাইং চেকপয়েন্ট’ বসিয়ে আকস্মিকভাবে রাস্তা বন্ধ করছে। গাজার মতো সেখানে এখন আর্থ-সামাজিক জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে। ফিলিস্তিনিরা যারা ইসরাইলে কাজ করতেন, তাদের সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে।
ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফা বলেন, “এটা পরিকল্পিত দমননীতি। তারা আমাদের জনগণের জীবন দুর্বিষহ করে তুলতে চাচ্ছে।” তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, এতে তরুণদের মাঝে উগ্রপন্থার প্রতি সহানুভূতি বাড়তে পারে।
অধিকাংশ দেশ ১৯৬৭ সালে দখলকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ইসরাইলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। কিন্তু ইসরাইল নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে প্রতিনিয়ত দখল বাড়াচ্ছে।
📌 সংক্ষেপে:
🔗 তথ্যসূত্র: রয়টার্স,
Leave a Reply