,
এই গরমে শিশুদের বয়সভেদে যত্ন ও পরিচর্যা
গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। গরমের প্রভাব থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে বয়সভেদে কিছু ভিন্ন ভিন্ন পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। এখানে নবজাতক থেকে শুরু করে বড় শিশুদের যত্ন নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
—
০–৬ মাস বয়সী শিশুদের যত্ন
পানি নয়, শুধুমাত্র বুকের দুধ: এই বয়সে গরম হলেও বাড়তি পানি দেওয়ার দরকার নেই। বারবার বুকের দুধ খাওয়াতে হবে, এতে পানি ও পুষ্টির চাহিদা মেটে।
ঠান্ডা, বাতাস চলাচলযোগ্য ঘরে রাখুন: নবজাতকদের অতিরিক্ত গরম থেকে রক্ষা করতে ঘরে ফ্যানের হালকা বাতাস রাখুন, তবে সরাসরি শিশুর ওপর না পড়ে।
সুতির পাতলা জামা: হালকা ও ঢিলা সুতির কাপড় পরান, যাতে গরমে আরাম পায় এবং ত্বকে ঘামাচি না হয়।
প্রতি দিন গোসল: এক বা দুইবার হালকা গরম পানিতে গোসল করাতে পারেন।
—
৬ মাস – ২ বছর বয়সী শিশুদের যত্ন
পানি ও তরল খাবার দিন: বুকের দুধের পাশাপাশি অল্প করে পানি, ডাবের পানি, ঘরে তৈরি লেবু পানি বা স্যালাইন দিতে পারেন।
সহজপাচ্য খাবার: খিচুড়ি, সবজি, টক দই—এসব খাবার শিশুর শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।
ঘনঘন পোশাক বদল: শিশুরা অনেক ঘামে, তাই গা ভেজা থাকলে পোশাক বদলে দিন।
গরমে বাইরে না বের হওয়া: দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে যাওয়া একেবারে নিরুৎসাহিত করুন।
—
২ বছর – ৫ বছর বয়সী শিশুদের যত্ন
খেলা হোক ঘরের ভেতর: প্রচণ্ড রোদে বাইরে খেলতে না দিয়ে ঘরের ভিতরে সক্রিয় থাকতে উৎসাহ দিন।
পানি পান ও ফলমূল খাওয়া: শিশুদের বেশি করে পানি পান করতে শেখান। তরমুজ, শসা, আমলকি, কলা ইত্যাদি খাওয়াতে পারেন।
ত্বকের যত্ন: ঘামাচির সমস্যা হলে বেবি পাউডার ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্রিম দিন।
—
৫ বছর ও তদূর্ধ্ব শিশুদের যত্ন
পর্যাপ্ত পানি ও হাইড্রেশন: স্কুলে বা বাইরে যাওয়ার সময় শিশুর ব্যাগে পানির বোতল দিন। ডাবের পানি, ঘরের শরবত—এসবেও উপকার হয়।
হালকা খাদ্যাভ্যাস: বাইরের তেল-মসলাযুক্ত খাবার বর্জন করে বাড়ির সহজ খাবার দিন।
সুস্থ ত্বকের যত্ন: প্রতিদিন গোসল, পরিষ্কার জামা এবং পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করতে শেখান।
ঠান্ডা ঘরে ঘুম: ঘুমানোর সময় ঘর যেন হালকা ঠান্ডা ও বাতাস চলাচলযোগ্য হয়, তাতে ভালো ঘুম হয় এবং শরীর ঠান্ডা থাকে।
—
বিশেষ পরামর্শ
যেকোনো লক্ষণ অবহেলা নয়: যদি শিশু বারবার বমি করে, পাতলা পায়খানা হয়, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে—তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
ঘেমে গেলে ফ্যানের নিচে বসানো ঠিক নয়: হঠাৎ ঠান্ডা বাতাসে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে, তাই ধীরে ধীরে শরীর ঠান্ডা করতে দিন।
—
ত্রিশাল হেল্প সেন্টার থেকে আমরা অভিভাবকদের আহ্বান জানাই—এই গরমে শিশুদের পরিচর্যায় সতর্ক থাকুন, সুস্থ রাখুন।
Leave a Reply