মে মাসে বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ছে, নিরাপদ নয় ছাতা ও রাবার জুতা
সারা দেশে সাম্প্রতিক বজ্রপাতে প্রতিদিন গড়ে ১৫-১৬ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রতি বছর বজ্রপাতে ৩০০’র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। তবে এবার মে মাসে হঠাৎ করেই মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় চিন্তিত সংশ্লিষ্টরা।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সতর্কতা ও সচেতনতা বজ্রপাত থেকে প্রাণ বাঁচানোর অন্যতম উপায়। মে মাসকে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি বজ্রপ্রবণ মাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ মাসে গড়ে ১৩ দিন বজ্রঝড় হয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকের ধারণা—বজ্রপাতের সময় ছাতা বা রাবারের জুতা ব্যবহার করলে রক্ষা পাওয়া যায়, তা সম্পূর্ণ ভুল। বজ্রপাতের সময় ছাতা, রাবারের জুতা, এমনকি কংক্রিটের মেঝেতে শোয়া বা দেওয়ালে হেলান দেওয়া, সবই বিপজ্জনক।
আবহাওয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত ৩৮ শতাংশ এবং জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫১ শতাংশ বজ্রঝড় হয়ে থাকে। তবে ভয়াবহতা ও প্রাণহানির দিক থেকে মার্চ-মে সময়কাল সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক।
বজ্রপাতের কারণ ও ভূগোল
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে জলীয়বাষ্পযুক্ত বাতাস আসে, যা চট্টগ্রাম-সিলেট অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ওঠার সময় ঠান্ডা হয়ে যায়। একই সঙ্গে পশ্চিম-উত্তর দিক থেকে উষ্ণ ও শুষ্ক বাতাস এসে মিশে গিয়ে তৈরি করে বজ্রমেঘ। এতে সিলেট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, রংপুর, পাবনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় বেশি বজ্রপাত ঘটে।
বাতাসে সালফেট ও দূষিত কণার পরিমাণ বেশি থাকায় বজ্রপাতের প্রবণতা আরও বাড়ে। এছাড়া বায়ুদূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বজ্রপাত বৃদ্ধিতে সহায়ক।
সরকারি সতর্কতা ও পরামর্শ
আবহাওয়া অধিদপ্তর ১ এপ্রিল থেকে বজ্রপাত বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু করেছে। এতে ঝড়, বাতাসের গতি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ইত্যাদি পূর্বাভাস দিয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান চালু করা হয়েছে:
“বজ ধ্বনি শুনবেন যখনই, ঘরে যাবেন তখনই।”
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “বজ্রপাত শুরু হলে বা বজ ধ্বনি শুনলেই বুঝতে হবে আপনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আছেন। তখনই দ্রুত ঘরে ফিরতে হবে এবং অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা ঘরে থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “খোলা মাঠ, গাছের নিচে, জলাশয়ে অবস্থান করা যাবে না। জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে হবে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্লাগ খুলে রাখতে হবে। কাচ বা রডে হাত দেওয়া যাবে না।”
Leave a Reply