নিজস্ব প্রতিবেদক | কুড়িগ্রাম | ৩ মে ২০২৫
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বাসর রাতেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কবিরমামুদ গ্রামে। সদ্য বিবাহিত লাভলী আক্তার মেহেদি রাঙা হাতে, লাল শাড়ি পরে কান্নাভেজা চোখে বিদায় জানান স্বামীকে—যিনি তাদের দাম্পত্য জীবনের প্রথম রাতেই চলে গেলেন না-ফেরার দেশে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুলবাড়ীর কবিরমামুদ গ্রামের শাহ জামালের মেয়ে লাভলী আক্তারের (২০) সঙ্গে একই উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের আছিয়ার বাজার এলাকার মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে ও রামপ্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেকুজ্জামান ডিউটের (৪০) বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের দিনটি ছিল উৎসবে ভরপুর। দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব সকলেই খুশিতে ভরপুর ছিলেন। কিন্তু রাতেই ঘটলো মর্মান্তিক ঘটনা।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূ লাভলী আক্তার ফুলশয্যার ঘরে স্বামীকে অপেক্ষা করছিলেন। রাত ১২টার দিকে ঘরে প্রবেশ করে বর ডিউট স্ত্রী লাভলীর কাছে এক গ্লাস পানি চান। ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি হঠাৎ মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া পাননি। পরে জানা যায়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
শুক্রবার বিকালে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
প্রয়াত খালেকুজ্জামান ডিউটের এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। আগের স্ত্রী মুক্তার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি লাভলীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আগের ঘরে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে।
নববধূর চাচা ও সাবেক ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, “আমার ভাতিজির জীবন শুরু হতেই থেমে গেল। এমন দুঃখ আমরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।”
শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম মিয়া বলেন, “এমন ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। নববধূর জীবনের শুরুতেই এই নির্মম পরিণতি খুবই বেদনাদায়ক।”
Leave a Reply